কবিতা
ওই যে ছেলেটা,
টিনের একটা তোবড়ানো আর মর্চে পড়া
কৌটোয় লাথি মারতে মারতে যে এখন
রাস্তা দিয়ে ভ্রুক্ষেপহীন
হেঁটে যাচ্ছে,
ওকে আমি চিনি।
ও আমার অনেক দূরের ছেলেবেলা।
ওই যে ছেলেটা,
ভোকাট্টা হয়ে উড়ে আসা ঘুড়িটাকে
পেড়ে আনবে বলে যে এখন
অশত্থগাছের ভীষণ সরু
মগডালের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে
ওকেও আমি চিনি।
ও আমার স্কুল পালানো ছেলেবেলা।
ওই যে ছেলেটা,
পাঁচ-সাত্তে পঁয়তাল্লিশ নামিয়ে তারপর
শেলেটের বাদবাকি জায়গা জুড়ে
যে এখন নির্বিকার
একা একাই কাটাকুটি খেলছে,
ওকেও আমি চিনি।
ও আমার ন্যাপথালিনের গন্ধে ভরা ছেলেবেলা।
আমার চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছে ছেলেবেলার ভিড়।
শুভার্থীরা বলে, ‘মশাই
আপনার কিছু হবে কী করে?
আপনি তো সেই
ছেলেবেলাতেই আটকে রইলেন।
তার জাল কেটে আপনার
অনেক আগেই বেরিয়ে আসা উচিত ছিল।‘
শুনে আমি কিছু বলি না।
শুধু ভাবি যে, যারা বেরিয়ে আসে,
তাদেরই বা কী হয়?
সংবর্ধনা সভায় গিয়ে তারা
কপালে চন্দনের ফোঁটা নেয়, আর
গলায় দোলায় গাঁদা ফুলের মালা।
কিন্তু নতুন আর কিছু লেখে না।
*নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী*
Comments
Post a Comment