নন্দলাল

নন্দলাল তো একদা একটা করিল ভীষণ পণ -
ডিপ্লোমার তরে, যা করেই হোক, রাখিবেই সে জীবন।
সকলে বলিল, ‘আ-হা-হা কর কি, কর কি, নন্দলাল?’
নন্দ বলিল, ‘বসিয়া বসিয়া রহিব কি চিরকাল?
আমি না করিলে কে করিবে আর উদ্ধার এই পরিবার ’
তখন সকলে বলিল- ‘বাহবা বাহবা তোমার প্রতিজ্ঞার ।’

নন্দর বাবা  দুশ্চিন্তায়  মরে, দেখিবে নন্দেরে  কেবা!
সকলে বলিল, ‘যাও না নন্দ, করো না বাবার সেবা’
নন্দ বলিল, বাবার জন্য জীবনটা যদি দিই-
না হয় দিলাম, - তাতে  আমার  উন্নতির  হইবে কি?
বাঁচাটা আমার অতি দরকার, ভেবে দেখি চারিদিক’
তখন সকলে বলিল- ‘হাঁ হাঁ হাঁ, তা বটে, তা বটে, ঠিক।’

নন্দ একদা হঠাৎ এপ্লিকেশন  করিল চাকরির ,
পাতায় পাতায় সার্টিফিকেটের নাম হইলো  বা হির;
পড়িল ধন্য জ্ঞানের   জন্য নন্দ খাটিয়া খুন;
এপ্লিকেশন  যত বিশগুণ  ঘুম, খায় দশ গুণ;
খাইতে ধরিল নান  কুকি ছোকা  পিজা থাল থাল,
সকলে বলিল- ‘বাহবা বাহবা, বাহবা নন্দলাল।’

বাবা হয়  পাগল।  করে  দরখাস্ত ননদের চাকরির ।
recruiter ফোন করি লে নন্দ বলে , ‘আ-হা-হা! ছাড় না ছাই,
জ্ঞান অর্জনে ব্যাস্ত আমি । ফোন ধরার সময় নাই ?
বাবার টাকায় খাই থাকি - আমার চাকরির দরকার নাই ।’
বলিল সকলে – ‘বাহবা নন্দ তোমার তুলনা নাই !’

নন্দ ঘরের হ’ত না বাহির, কোথা কোন অপমান হয় ;
নৌকা ফি-সন ডুবিছে ভীষণ, গাড়িতে ‘কলিসন’ হয়;
হাঁটতে সর্প, কুকুর আর গাড়ি-চাপা পড়া ভয়,
ঠান্ডা গরম আর জলে তে বীজাণু । কর চ্ছে জীবন হানি
চড়িত না গাড়ি, কি জানি কখন উল্টায় গাড়িখানি,
তাই শুয়ে শুয়ে, কষ্টে বাঁচিয়ে রহিল নন্দলাল
বলিল সকলে - ‘সাহসী নন্দ, বেঁচে থাক্ চিরকাল।’ 

Comments

Popular posts from this blog

non american

প্রান্তরের গান আমার

dinkar